191

খুলনার দুঃখের আরেক নাম হয়ে উঠছে শেখ আবু নাসের স্টেডিয়াম। গত পাঁচ বছরে কয়েকটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ এখানে হলেও তার থেকে বেশী বার করতে হয়েছে বড় ধরনের সংস্কার। আন্তর্জাতিক মান সম্পন্ন এই ভেন্যু গত পাঁচ বছর ধরে শুধু সংস্কারের মধ্যেই আছে। টাইগারদের লাকি ভেন্যু খ্যাত আবু নাসের স্টেডিয়াম এখন রয়েছে চরম বিপর্যস্ত অবস্থায়। গত এপ্রিল মাসে ঝড়ে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয় স্টেডিয়ামটি। এরপর ৬ মাস কেটে গেলেও সংস্কারের জন্য কার্যকরী উদ্যোগ নেয়া হয়নি। কবে নাগাদ সংস্কার কাজ শুরু হয়ে স্টেডিয়ামটি আন্তর্জাতিক খেলার উপযুক্ত হবে তার সুস্পষ্ট উত্তর পাওয়া যায়নি সংশ্লিষ্ট কোন কর্তৃপক্ষের কাছে। ফলে পুনরায় এ মাঠে আন্তর্জাতিক ম্যাচ হওয়া নিয়ে রয়েছে শঙ্কা। স্টেডিয়াম প্রস্তুত না থাকায় এবারের বিপিএলও এ মাঠে অনুষ্ঠিত হতে পারলো না। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের মধ্যে চিঠি চালাচালির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে স্টেডিয়াম সংস্কার প্রকল্প। অভিযোগ রয়েছে নিম্নমানের কাজ হওয়ায় প্রতিবারই কিছুদিন পর স্টেডিয়ামের অবকাঠামো বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে এর থেকেও আশঙ্কার খবর হচ্ছে, যদি টানা দুই বছর কোন স্টেডিয়ামে খেলা না হয়, সেক্ষেত্রে আইসসিসি থেকে পুনরায় ভেন্যুর মর্যাদা নিতে হয়। এর আগে ওয়ানডে স্ট্যাটাস ও টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার জন্য অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে খুলনাকে। সর্বশেষ চলতি বছর জানুয়ারি মাসে শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৪টি ওয়ানডে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিলো। ৮ মাসেরও বেশী সময় হয়েছে এ ভেন্যুতে কোন আন্তর্জাতিক ম্যাচ নেই। পারিপাশ্বিক অবস্থায় ধারণা করা হচ্ছে হয়তো আন্তর্জাতিক ম্যাচহীন ২ বছর পার করতে হতে পারে খুলনাকে। সেক্ষেত্রে পুনরায় আইসিসির স্বীকৃতি পেতে হবে। সর্বশেষ গত ৬ এপ্রিল ঘূর্ণিঝড়ে বড় ধরনের ক্ষতি হয় শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামের। স্টেডিয়ামের প্যাভিলিয়ান বিল্ডিং, প্রেসিডেন্ট বক্স, মিডিয়া বক্সসহ অধিকাংশ ভবনের সিলিং ও গ্লাস ভেঙে পড়ে। মাঠের ভিতরে থাকা সাইড স্ক্রিনও ভেঙে যায়। সব মিলিয়ে প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষতি হয়। একই সাথে কোন বড় ধরনের খেলা এ মাঠের জন্য অনুপোযোগী হয়ে যায়। এসব ভবনে থাকা প্রায় সবগুলো এসি (তাপ নিয়ন্ত্রক) অকেজো হয়ে যায়। এছাড়া স্টেডিয়ামে আগে থেকেই এক পাশের গ্যালারির চেয়ার উঠিয়ে নেয়া হয়। ফলে এখন শ্রীহীন অবস্থায় রয়েছে স্টেডিয়ামটি। ফ্লাড লাইটেরও বেহাল দশা। বেশ কিছু লাইট অকেজো হয়ে পড়েছে। এছাড়া নিম্নমানের প্লাস্টিকের চেয়ার স্থাপনের ফলে গ্যালারির এক অংশের প্রায় সব চেয়ার ভেঙে গেছে। ২০১৫ সালের নভেম্বর মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ চলাকালেই এই চেয়ারগুলো ভেঙে যায়। এরপর থেকে এই ভেন্যুতে চেয়ার ছাড়াই রয়েছে। এমনকি জিম্বাবুয়ে সিরিজে গ্যালারিতে এক অংশ চেয়ার ছাড়াই দর্শকদের খেলা দেখতে হয়। বারবার নিম্নমানের চেয়ার স্থাপনের ফলে চেয়ার ভেঙে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। ঝড়ের পর দিনই শেখ আবু নাসের স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ বিসিবিকে ক্ষতির বিষয়টি চিঠির মাধ্যমে জানায়। এরপর বিসিবি থেকে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে সংস্কার প্রয়োজন জানিয়ে চিঠি দেয়া হয়। একাধিকবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে থেকে স্টেডিয়াম পরিদর্শন করলেও সংস্কার কাজ শুরুর আর উদ্যোগ চোখে পড়েনি। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের প্রকল্প প্রকৌশলী মোঃ আওলাদ হোসেন গতকাল সময়ের খবরকে জানান, আমরা একটি প্রকল্প তৈরি করে পরিকল্পনা বিভাগে পাঠিয়েছি। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোন সাড়া পাইনি। কেন সাড়া নেই? কবে নাগাদ কাজ শুরু হবে ? এসব প্রশ্নের উত্তরে কিছুই জানাতে পারেননি খুলনা অঞ্চলের জাতীয় ক্রীড়া পরিষেদের উন্নয়ন প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা এই প্রকৌশলী। দায় এড়ানো বক্তব্য দিয়ে তিনি বলেন, আমাদের আসলে কিছুই করার নেই। সন্তোষজনক কোন উত্তর পাওয়া যায়নি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের গ্রাউন্ডস এ্যান্ড ফ্যাসিলিটিজ ন্যাশনাল ম্যানেজার সৈয়দ আব্দুল বাতেনের কাছ থেকেও। তিনি জানান, আমাদের খুব বেশী কিছু করার থাকে না। এই স্টেডিয়ামে কি কি লাগবে সেটা জানিয়ে আমরা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে চিঠি দিয়েছি কিন্তু কোন সাড়া পাচ্ছি না। তবে এটি প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে দাবি করে বলেন, আমরা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। খুব শিগগিরই কাজ শুরু হবে। তবে বিসিবি’র খুলনা বিভাগীয় পরিচালক শেখ সোহেল খুলনা আবু নাসের স্টেডিয়াম নিয়ে বৃহৎ পরিকল্পনার কথা জানালেন। তিনি গতকাল সময়ের খবরকে বলেন, আবু নাসের স্টেডিয়ামে দর্শক ধারণ ক্ষমতা খুব কম। কোন ম্যাচ হলে এখানে উপচে পড়া দর্শক হয়। যেটি নিরাপত্তা বিঘিœত হওয়ারও কারণ। এ কারণে স্টেডিয়ামের গ্যালারির এক পাশে দ্বি-তলা নির্মাণ করার কথা ভেবেছে বিসিবি। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে একটি প্রস্তুাব দেয়া হয়েছে। আশা করছি, আগামী বছর নাগাদ এ কাজ শুরু হবে। তখন এই স্টেডিয়ামে নিয়মিত খেলা অনুষ্ঠিত হবে। উল্লে¬খ্য, ২০০৬ সালে খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামেরর আন্তর্জাতিক ম্যাচের পথচলা শুরু। ওই বছর খুলনাতে একটি ওয়ানডে ম্যাচ ও পরবর্তী বছর দু’টি ওয়ানডে ও একটি টি-টেয়েন্টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর দীর্ঘ ৬ বছর খুলনার আবু নাসের স্টেডিয়ামে কোন আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়নি। ২০১২ সালে ওয়েস্ট বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচ দিয়ে স্টেডিয়ামটি টেস্ট ভেন্যুর স্বীকৃতি পায়। ওই বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে ম্যাচও অনুষ্ঠিত হয় এ মাঠে। এরপর আবারও দীর্ঘ অপেক্ষা। অবশেষে ২০১৫ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে একটি টেস্ট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। আর সর্বশেষ ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৪টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচও অনুষ্ঠিত হয়। এখন আবার অপেক্ষার পালা। কবে আবার আবু নাসের স্টেডিয়ামে খেলা হবে ?