একজন “তামিম ইকবাল” এর গল্প

২০১৫ নাকি ২০১৬—কোন বছরটা বেশি ভালো কেটেছে আপনার? তামিম ইকবাল নিশ্চিত ধাঁধায় পড়ে যাবেন। প্রথমটিকে যদি বলেন ‘অসাধারণ’, দ্বিতীয়টিকে অবশ্যই বলতে হবে ‘দুর্দান্ত’! এখন কোন বছরটি তাঁর বেশি ভালো গেছে, বুঝে নিন। 

২০১৫ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে ওয়ানডে সিরিজে টানা দুই সেঞ্চুরি, একই দলের বিপক্ষে খুলনা টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি, বিশ্বকাপটা বাদ দিলে গত বছরজুড়েই আশ্চর্য ধারাবাহিকতা। সেই ফর্মটা টেনে এনেছেন এই বছরেও। যদিও বছরের শুরুটা ছিল তাঁর সাদামাটা। সন্তানসম্ভবা স্ত্রীর পাশে থাকতে খেলতে পারেননি জানুয়ারিতে খুলনায় জিম্বাবুয়ের সঙ্গে টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচ। কিন্তু প্রথম তিন ম্যাচেও জ্বলেনি ব্যাট। ৩ ম্যাচে ৫৩ রান।

মার্চে এশিয়া কাপে খেলবেন না—এমনটাই জানা গিয়েছিল। চোটে পড়ে মোস্তাফিজুর রহমান ছিটকে পড়লে টুর্নামেন্টের শেষ দিকে আকস্মিক দলে ফেরেন তামিম। কিন্তু ফেরেনি তাঁর ছন্দ। ২ ম্যাচে করেন মাত্র ২০ রান। এমন সাদামাটা তামিমই হঠাৎ​ বদলে গেলেন বড় আসর পেয়ে।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকেই দেখা গেছে অন্য তামিমকে। টুর্নামেন্টে ৬ ম্যাচে ৭৩ গড়ে ২৯৫ রান করে ছিলেন সবার ওপরে। বাংলাদেশের হয়ে প্রথম টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরিটা করেছেন এই বিশ্বকাপেই। টুর্নামেন্ট বদলেছে, সংস্করণ বদলেছে, প্রতিপক্ষ বদলেছে, কিন্তু তামিম বদলাননি!

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর একটা লম্বা বিরতি, প্রায় ছয় মাস আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেনি বাংলাদেশ। সময়টা জাতীয় দলের খেলোয়াড়েরা কাজে লাগিয়েছেন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ খেলে। এখানেও দুর্দান্ত তামিম। ১৬ ম্যাচে ৪৭.৬০ গড়ে ২ সেঞ্চুরি ও ৪ হাফ সেঞ্চুরিতে ৭১৪ রান করে ছিলেন দুইয়ে। ৫ রানের জন্য শীর্ষে থাকা হয়নি বাঁহাতি ওপেনারের। তবে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে আবাহনীকে এনে দিয়েছেন লিগ শিরোপা।

সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজেও কথা বলেছে তামিমের ব্যাট। ৩ ওয়ানডেতে ১ সেঞ্চুরি ও ১ ফিফটিতে ৭২.৬৬ গড়ে ২১৮ রান করে সিরিজের সেরা ব্যাটসম্যান। টেস্টে ইংল্যান্ড কেন তাঁর ‘প্রিয় প্রতিপক্ষ’, সেটি আবার বুঝিয়েছেন তামিম। অক্টোবরে ইংলিশদের সঙ্গে ২ টেস্টে ৫৭.৭৫ গড়ে ১ সেঞ্চুরি ও ১ হাফ সেঞ্চুরিতে ২৩১ রান করে ছিলেন শীর্ষে। 

কাল পর্যন্ত এই বছর টেস্ট ও ওয়ানডে দুটিতেই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তামিম। ৩৬৮ রান করে টি-টোয়েন্টিতে অবশ্য দুইয়ে আছেন বাঁহাতি ওপেনার। তবে একে থাকা সাব্বির রহমানের চেয়ে তিনি ম্যাচ কম খেলেছেন পাঁচটি। বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে এক পঞ্জিকাবর্ষে ক্রিকেটের তিন সংস্করণেই সেঞ্চুরির কীর্তিটার জন্যও তামিমকে মনে রাখতে হবে ২০১৬ সালটি। 

ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টুর্নামেন্টেও তামিম সমান উজ্জ্বল। ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তান সুপার লিগেও ‘সুপার’ খেলেছেন। ৬ ম্যাচে ৬৬.৭৫ গড়ে ৩ ফিফটিতে করেছেন ২৬৭ রান করে ছিলেন শীর্ষ পাঁচে। সর্বশেষ বিপিএলেও রানের ফোয়ারা ছুটিয়েছেন তামিম, ১৩ ম্যাচে ৪৩.২৭ গড়ে ৬ হাফ সেঞ্চুরিতে ৪৭৬ রান করে ছিলেন সবার ওপরে। তাঁর ব্যাটিং দ্যুতিতে টি-টোয়েন্টির সবচেয়ে আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যান ক্রিস গেইল পর্যন্ত পার্শ্বচরিত্র হয়ে গেছেন! 

তথ্য-পরিসংখ্যান সবই বলা হলো। বছরটা যে তামিম, ‘সুপারম্যান তামিমে’র—বলতে নিশ্চয়ই অসুবিধা নেই!



২০১৬ সালে তামিম

* ২ টেস্টে ৫৭.৭৫ গড়ে ১ সেঞ্চুরি ও ১ হাফ সেঞ্চুরিতে ২৩১ রান। 

* ৭ ওয়ানডেতে ৪৭.৪২ গড়ে ১ সেঞ্চুরি ও ১ হাফ সেঞ্চুরিতে রান ৩৩২। বছরে বাকি আছে আরও দুটি ওয়ানডে। 

* ১১ টি-টোয়েন্টি ৪০.৮৮ গড়ে ১ সেঞ্চুরি ও ১ হাফ সেঞ্চুরিতে ৩৬৮ রান। 

* টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ওমানের বিপক্ষে ১০৩ রানে ছিলেন অপরাজিত, টি–টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম তিন অঙ্ক ছোঁয়ার রেকর্ড। 

* এক পঞ্জিকাবর্ষে ক্রিকেটের তিন সংস্করণেই সেঞ্চুরি করা বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হয়েছেন এ বছর। 

* বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়ানডেতে ৫০০০ রান ছুঁয়েছেন এ বছরে। 

* বিপিএলে ১৩ ম্যাচে ৪৩.২৭ গড়ে ৬ হাফ সেঞ্চুরিতে ৪৭৬ রান। বিপিএলে এক আসরে সবচেয়ে বেশি ফিফটির রেকর্ড।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s