ঝালিয়ে নেওয়ার সময়ই তো নেই সাকিবদের!

করুন নায়ার চাইলে চেন্নাই টেস্টের পর বিশ্রাম নিতে পারতেন। ইংল্যান্ডের সঙ্গে সিরিজের শেষ টেস্টে অপরাজিত ৩০৩ রান করেছেন। সেটির রেশ কাটতেও তো কটা দিন লাগে! কিন্তু বিশ্রামের ভাবনা শিকেয় তুলে নায়ার দুদিন পরই ব্যস্ত হয়ে পড়লেন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে।

বাংলাদেশে কি এমন উদাহরণ খুঁজে পাবেন? বাংলাদেশ পর্যাপ্ত টেস্ট খেলার সুযোগ পায় না। ফলে টেস্টের ভুলত্রুটিগুলো কাটিয়ে ওঠার সুযোগও সামান্য। কিন্তু যতটুকু সুযোগ আছে, তারও কি পুরো সদ্ব্যবহার করা হয়? যে মানেরই হোক না কেন, আমাদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তারকা ক্রিকেটারদের উপস্থিতি কেমন?
এর উত্তর মিলতে পারে এখান থেকে—গত অক্টোবরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৪ মাস পর টেস্ট খেলতে নামার আগে সাকিব আল হাসানকে যখন জিজ্ঞেস করা হলো, সর্বশেষ ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচ কবে খেলেছেন? বাঁহাতি অলরাউন্ডার বলেছিলেন, ‘লংগার ভার্সন কবে খেলছি মনে নেই!’
সাকিব সর্বশেষ চার দিনের ম্যাচ খেলেছেন ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে। স্মৃতিতে ধুলো তো পড়বেই। সাকিব কি এটাও মনে করতে পারবেন, ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তিনি কটা ম্যাচ খেলেছেন? ২০০৫ সালে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক এই বাঁহাতি অলরাউন্ডার গত এক যুগে খেলেছেন মাত্র ১৪টি ম্যাচ!
খেলার ধরন ভিন্ন হলেও সাকিবের সঙ্গে দলের অন্য তিন তারকা ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহর এখানে দারুণ মিল। সবারই প্রথম শ্রেণিতে অভিষেক ২০০৫ সালের শুরুর দিকে। কিন্তু এক যুগের ক্যারিয়ারে কেউ ৫০টি ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ম্যাচও খেলেননি। মুশফিক খেলেছেন ২৩টি, তামিম ২৪টি। মাহমুদউল্লাহ সে তুলনায় একটু বেশি—৪৬টি।
২০০৮ সালের পর চার বছর বিরতি দিয়ে ২০১২ সালে জাতীয় লিগে একটি মাত্র ম্যাচ খেলেছিলেন সাকিব। এরপর আবার তিন বছরের বিরতি দিয়ে ২০১৫ সালেও একটি ম্যাচে খেলে আবারও বিরতি। চট্টগ্রামের তামিম ইকবাল ২০১৩-১৪ মৌসুমে কোনো ম্যাচ না খেললেও তার আগের মৌসুমে খেলেছেন একটি। রাজশাহীর অধিনায়ক মুশফিক এবং ঢাকা মহানগর অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহও তাঁদের সর্বশেষ দুটি ম্যাচ খেলেছেন ওই মৌসুমে।
বাংলাদেশের শীর্ষ টেস্ট ব্যাটসম্যানদের মধ্যে ব্যতিক্রম বলতে মুমিনুল হক। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের কদর নেই বলেই বিসিএল, জাতীয় লিগে নিয়মিত দেখা যায় তাঁকে। সর্বশেষ জাতীয় লিগেও খেলেছেন মুমিনুল। ২০০৮ সালের অক্টোবরে প্রথম শ্রেণিতে অভিষিক্ত এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান এরই মধ্যে ৩৯টি ম্যাচ খেলে ফেলেছেন। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে নিয়মিত না হওয়ায় ইমরুলকেও মোটামুটি নিয়মিতই দেখা যায় প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে।
বিপিএল, ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ বাদে ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলা না খেলা অনেকটা যেন নির্ভর করে তারকা খেলোয়াড়দের ইচ্ছের ওপর। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তারকা খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন বললেন, ‘ফ্রি থাকলে অবশ্যই তাদের খেলতে হবে। আন্তর্জাতিক ব্যস্ততা না থাকলে আর যদি ফিট থাকে, না খেলার কোনো কারণ নেই।’
কিন্তু তথ্য বলছে ভিন্ন কথা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নিয়ে ব্যস্ততা নেই, চোটেও আক্রান্ত নন, তবুও সাকিব-মুশফিক-তামিম খেলেননি—এমন উদাহরণ পেতে খুব বেশি পেছাতে হবে না। ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া জাতীয় লিগের ১৫তম আসরের প্রথম কয়েকটি ম্যাচে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের অংশ নেওয়ার সুযোগ ছিল না। বাংলাদেশ দল তখন ব্যস্ত ছিল শ্রীলঙ্কা সিরিজ, এশিয়া কাপ ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে। কিন্তু এপ্রিলের শুরুতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর জাতীয় লিগ যখন আবার শুরু হলো, তাতে দেখা যায়নি সাকিব-তামিম-মুশফিকদের মতো তারকা খেলোয়াড়দের।
তারকাত্রয়ীকে দেখা যায়নি একই বছরের মে মাসে ফ্র্যাঞ্চাইজি প্রথম শ্রেণির টুর্নামেন্ট বিসিএলের শেষ কটি ম্যাচেও। সাকিব ব্যস্ত ছিলেন আইপিএল নিয়ে। কিন্তু তামিম-মুশফিক? হয়তো বিশ্রামে কিংবা ব্যক্তিগত ব্যস্ততা নিয়ে। আরও পেছনে তাকালে এমন উদাহরণ খুঁজে পাওয়া যাবে আরও অনেক।
সুযোগ থাকার পর এবারও প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলছেন না সাকিব-তামিম-মাহমুদউল্লাহরা। বড় দৈর্ঘ্যের জন্য নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়ার সময়ই তো পান না! তাঁরা এবার ব্যস্ত থাকবেন পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) নিয়ে। আর্থিক দিক দিয়ে পিএসএল অবশ্যই লাভজনক। কিন্তু এই টুর্নামেন্ট খেলেই তাঁদের নেমে পড়তে হবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট খেলতে। টি-টোয়েন্টির পরই বড় দৈর্ঘ্যের ক্রিকেট। মানিয়ে নিতে সমস্যা হবে তো বটেই।
বাংলাদেশের মতো টেস্ট দল, যাঁরা সত্যিই খুব বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ পান না, সেই দলের ক্রিকেটারদের বড় দৈর্ঘ্যের ক্রিকেটের মানসিকতা তৈরি করতে ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলার বিকল্প নেই। কিন্তু ওই যে তাঁরা তো ‘ফ্রি’-ই থাকেন না!
Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s