‘মোস্তাফিজ আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে’

মনে মনে ভেবেছি, কখনো যদি সুযোগ পাই, আমিও মোস্তাফিজের মতো এমন কিছু করার চেষ্টা করব। ইংল্যান্ডের সঙ্গে টেস্ট সিরিজে সুযোগ পাওয়ার পর ভেবেছি, এটা একটা সুযোগ

.

চট্টগ্রাম টেস্টে অভিষেকেই ৭ উইকেট পাওয়ার পর ঢাকা টেস্টে ১২ উইকেট—ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের নায়ক তিনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এসেই বিস্ময় উপহার দেওয়া মিরাজ এরই মধ্যে খেলেছেন ৫ টেস্ট। টানা তিনটি সিরিজের ধকল কাটাতে গিয়েছিলেন বাড়িতে। আট দিনের ছুটি কাটিয়ে কাল খুলনা থেকে ঢাকায় ফিরেছেন ১৯ বছর বয়সী অফ স্পিনার। ফেরার পথে মুঠোফোনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পাওয়া গেল চনমনে মেহেদী হাসান মিরাজকে

.

ছুটিটা কেমন উপভোগ করলেন?

.

মিরাজ: ছুটিতে গ্রামের বাড়ি বরিশালে গিয়েছিলাম। আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সময়টা দারুণ কেটেছে। তবে এখন আর আগের মতো নির্বিঘ্নে ছুটি কাটাতে পারি না। এটা অনেক সময় উপভোগ্য হয়, অনেক সময় বিড়ম্বনাও হয়। ধরুন বিশ্রাম নিচ্ছি, তখন অনেকে এসেছে দেখা করতে। ক্লান্ত লাগলেও হাসিমুখে সবার সঙ্গে কথা বলি। ভাবি সবাই আমাকে ভালোবেসেই আসে। আমার সঙ্গে কেউ দেখা করতে এলে ভালোই লাগে

.

* একের পর এক টানা সিরিজ-টুর্নামেন্ট খেলছেন। কদিন পর আবার শ্রীলঙ্কা সফর। এত কম বয়সে এত চাপ সামলাচ্ছেন কীভাবে?

.

মিরাজ: টানা সিরিজ খেলায় মানসিকভাবে একটু ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম। টেস্ট অভিষেকের আগে ব্যস্ত ছিলাম জাতীয় লিগে। সেখান থেকে সুযোগ পেলাম জাতীয় দলে। ইংল্যান্ড সিরিজের পর মাত্র এক দিনের ছুটি কাটিয়ে ব্যস্ত হলাম বিপিএল নিয়ে। বিপিএলের ফাইনাল খেলার পরদিন সিডনির ফ্লাইট। অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে ৪৭ দিনের সফর। সেখান থেকে এসে দুই দিন ছুটি কাটিয়ে আবার ভারত সফর। গত ছয় মাসে খুব একটা বিশ্রাম পাইনি। অনেক দিন ধরেই ৮-১০ দিনের একটা ছুটি খুঁজছিলাম। ভারত সফরের পর সেটা পেয়েছি। মনটা এখন অনেক হালকা লাগছে। সামনের সিরিজে নতুন করে শুরু করতে এটা কাজে দেবে।

.

* গত বছর অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ভালো করে চলে আসেন পাদপ্রদীপের আলোয়। কিন্তু এত দ্রুত জাতীয় দলে আসবেন, অভিষেক সিরিজেই হইচই ফেলে দেবেন, এমনটা কখনো ভাবতে পেরেছিলেন?

.
মিরাজ: ২০১৫ সালের জুনে ভারতের সঙ্গে ওয়ানডে অভিষেকেই চমকে দেয় মোস্তাফিজ। বলতে গেলে একাই ভারতের বিপক্ষে সিরিজ জিতিয়ে দেয়। মোস্তাফিজের ওই পারফরম্যান্স আমাকে ভীষণ অনুপ্রাণিত করেছে। বয়সভিত্তিক ক্রিকেট থেকেই আমরা একসঙ্গে খেলছি। ওকে দেখে ভীষণ উৎসাহিত হয়েছি। ভবিষ্যতে কী করব, সেটা তো আগে থেকে বলা যায় না। তবে মনে মনে ভেবেছি, কখনো যদি সুযোগ পাই, আমিও মোস্তাফিজের মতো এমন কিছু করার চেষ্টা করব। ইংল্যান্ডের সঙ্গে টেস্ট সিরিজে সুযোগ পাওয়ার পর ভেবেছি, এটা একটা সুযোগ। এমন কিছু করতে চাই, যেটা মানুষ বহুদিন মনে রাখবে। ইংল্যান্ড সিরিজে সেটা হয়েছেও।

.

* মোস্তাফিজ আপনার ঘনিষ্ঠ বন্ধুও। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দুজনের শুরুটাও হয়েছে দুর্দান্ত। আপনাদের নিয়ে মানুষের অনেক আগ্রহ। যখন আপনারা আড্ডা দেন, এসব প্রসঙ্গ আসে?

.

মিরাজ: কী করেছি এসব আমাদের মাথায় কখনো কাজ করে না। এটা নিয়ে একদমই ভাবি না। আমাদের কাজ খেলা। মাঠে ভালো খেলাটাই আসল কথা। আমাদের ইতিবাচক দিক হচ্ছে, সব সময়ই মানসিকভাবে শক্ত থাকার চেষ্টা করি। কোনো দলকেই ভয় পাই না। প্রতিপক্ষ কত শক্তিশালী, সেসব নিয়ে একদমই ভাবি না। শুধু ভাবি, ওরাও খেলোয়াড়, আমরাও খেলোয়াড়। ওরা যদি ভালো করতে পারে, আমরা কেন পারব না?

.

* আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আপনাদের দুই বন্ধুর এখনো একসঙ্গে ম্যাচ খেলা হয়নি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুজনই যদি একাদশে সুযোগ পান, সেটি নিশ্চয়ই রোমাঞ্চকর হবে?

.

মিরাজ: অবশ্যই ভালো লাগবে। তবে যদি দুজনই শতভাগ দিয়ে দলের জন্য ভালো ফল আনতে পারি, সেটাই বেশি আনন্দ দেবে। প্রতিপক্ষ আমাদের দুজনকে নিয়ে অনেক ভাবে। দলকে শক্তিশালী করতে ভবিষ্যতে আরও বেশি অবদান রাখার চেষ্টা করব আমরা।

.

* ভারতে যাওয়ার আগে বলেছিলেন, অশ্বিনের সঙ্গে দেখা করবেন। তা তিনি কী টিপস দিলেন?

.

মিরাজ: ভারত সফরে অনেক কিছু শিখেছি। মানসিকভাবে ওরা অনেক শক্ত। ওদের খেলার ধরন, কোন পরিস্থিতি কীভাবে সামলায়, এসব শিখেছি। অশ্বিন বলেছে, তোমার বোলিংয়ের সবই ঠিক আছে। তবে আরও বেশি অনুশীলন করবে। কিছু টিপস দিয়েছে সে, সেগুলো নিয়ে কাজ করলে বোলিংটা আরও ভালো হবে আশা করি।
* বোলিং ভালো হলোও ব্যাটিং নিয়ে বেশ চিন্তায় ছিলেন। হায়দরাবাদ টেস্টে অবশেষে ব্যাটসম্যান মিরাজের দেখা মিলেছে। ব্যাটিংয়ে নিজেকে ফিরে পেতে কি জেদ চেপে বসেছিল?

.

মিরাজ: আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অনেক কঠিন। শুরুর দিকে মানিয়ে নিতে কষ্ট হয়েছে। ধীরে ধীরে বুঝতে পারছি, এখানে কীভাবে টিকে থাকতে হয়। তবে পরিপূর্ণ ব্যাটসম্যান হতে আরও সময় লাগবে। ব্যাটিং নিয়ে আরও কাজ করতে হবে।

.

* ভারতের বিপক্ষে ফিফটির পর অনেক উচ্ছ্বসিত ছিলেন। উদ্যাপন করতে হেলমেটও বোধ হয় খুলতে চেয়েছিলেন…

.

মিরাজ: খুশিতে কী করব তখন ভেবে পাচ্ছিলাম না! দলের সিনিয়র খেলোয়াড়েরা অনেক খুশি হয়েছিলেন। তাঁরা জানেন আমি ব্যাটিং পারি, কিন্তু কেন যেন হচ্ছিল না। তামিম-সাকিব ভাই অনেক সমর্থন করেছেন। তামিম ভাই একবার বলছিলেন, ২০-৩০ না, তুই যেদিন রান করবি লম্বা ইনিংস খেলবি। সাকিব ভাই বলছিলেন, এই টেস্টে (হায়দরাবাদ) তুই ফিফটি মারবি। সিনিয়রদের এসব কথা ভীষণ অনুপ্রাণিত করে, আত্মবিশ্বাস দেয়।

.

* দলের সবচেয়ে জুনিয়র আপনি। ড্রেসিংরুমে কি চুপচাপ থাকেন? আর সিনিয়ররা আপনাকে তো অনেক সহায়তা করে। আপনার কাছ থেকেও কি তাঁরা সহায়তা নেয়?

.

মিরাজ: (হেসে) আমি আসলে চুপচাপ থাকতে পারি না। ড্রেসিংরুমে সবার সঙ্গে মিশি, কথা বলি। আর সিনিয়রদের আমি আর কী সহায়তা করতে পারি! নেটে তাদের বোলিং করি, কিছু এনে দিতে বললে এনে দিই—এই তো!

 

Advertisements

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s