স্মিথ–কোহলিদের ছাড়িয়ে সাকিব–মুশফিক!

স্টিভেন স্মিথ, বিরাট কোহলি, কেন উইলিয়ামসন, ডেভিড ওয়ার্নার—এই সময়ের টেস্টের দাপুটে সব ব্যাটসম্যানের তালিকায় সাকিব আল হাসান-মুশফিকুর রহিমকে কোথায় রাখবেন? শীর্ষ দশে রাখতেও পারেন, নাও পারেন। কিন্তু টেস্টে এই বছর সবচেয়ে বেশি রান করা ব্যাটসম্যানদের তালিকায় কিন্তু শীর্ষ দুয়েই আছেন বাংলাদেশের দুই তারকা।

গত জানুয়ারি থেকে এখনো পর্যন্ত ৫ টেস্টে ৫৯.৪৪ গড়ে ২ সেঞ্চুরি ও ২ ফিফটিতে ৫৩৫ রান করে সবার ওপরে আছেন সাকিব। ওয়েলিংটনে ডাবল সেঞ্চুরির পর কলম্বো টেস্টেও বাঁহাতি অলরাউন্ডার ছুঁয়েছেন তিন অঙ্ক। হায়দরাবাদ ও ক্রাইস্টচার্চ টেস্টে পেয়েছেন ফিফটি। ৪ টেস্টে ৮২.১৬ গড়ে ২ সেঞ্চুরি ও ২ ফিফটিতে ৪৯৩ রান করে সাকিবের পরই আছেন মুশফিক। সেঞ্চুরির প্রথমটি পেয়েছেন ওয়েলিংটনে, পরেরটি হায়দরাবাদে। বাংলাদেশ টেস্ট অধিনায়ক যে ফর্মের তুঙ্গে আছেন এ বছর তাঁর খেলা ইনিংসগুলো দেখলেই বুঝবেন—১৫৯, ১৩*, ১২৭, ২৩, ৮৫, ৩৪, ৫২। এখনো পর্যন্ত চার টেস্টের প্রতিটিতেই অন্তত ফিফটি করেছেন মুশফিক।

দুর্দান্ত ছন্দে থাকা স্টিভেন স্মিথ পর্যন্ত বেশ দূরেই আছেন সাকিব-মুশফিকের চেয়ে—অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক ৪ টেস্টে ২ সেঞ্চুরি ও ১ ফিফটিতে করেছেন ৪৩৩ রান। এই তালিকায় বিরাট কোহলি আছেন ঢের পিছিয়ে, স্মিথের সমান টেস্ট খেলে ভারতীয় অধিনায়কের রান ২৮৮। ৪ টেস্টে কিউই অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনের রান ২৯২।

শুধু সাকিব-মুশফিকই নন, এই বছরের শীর্ষ ব্যাটসম্যানদের তালিকায় পাবেন সৌম্য সরকারের নামটাও। বাঁহাতি ওপেনার ৪ টেস্টে ৩৬৪ রান করে আছেন শীর্ষ ছয়ে। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের এই ছন্দ যেন মনে করিয়ে দিচ্ছে ২০১০ সালে তামিম ইকবালের ফর্মটা। ওই বছরের জুলাই পর্যন্ত শীর্ষ ব্যাটসম্যান ছিলেন বাংলাদেশের বাঁহাতি ওপেনার। ৭ টেস্টে ৩ সেঞ্চুরি ও ৬ ফিফটিতে ৫৯.৭৮ গড়ে রান ৮৩৭। তিন সেঞ্চুরির দুটিই আবার ইংল্যান্ডের মাটিতে। লর্ডস, ওল্ড ট্রাফোর্ডে করা ঝলমলে দুই সেঞ্চুরি তামিমকে এনে দিয়েছিল একটি ‘প্রথম’-এর গৌরব। উইজডেন ক্রিকেটার্স অ্যালমানাকের বর্ষসেরা ক্রিকেটারের তালিকায় প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে স্থান পান এই বাঁহাতি ওপেনার।

আরও পড়ুন ঃ

https://crick24.wordpress.com/2017/03/18/ওয়ানডে-সিরিজের-দল-ঘোষনা-ক/

২০১০ সালে জুলাইয়ের পর বাংলাদেশ আর টেস্টই খেলেনি, আর এগোনোও হয়নি দারুণ ছন্দে থাকা তামিমের। ওই বছর ১৪ টেস্টে ১৫৬২ রান করে তাই শীর্ষে চলে যান শচীন টেন্ডুলকার। এবার সাকিব-মুশফিকের তামিমের মতো অভিজ্ঞতা হয় কি না, এখনই বলা কঠিন। তবে বাংলাদেশের পরের দুটি টেস্ট সিরিজ দেশের মাঠে হওয়ার কথা। কিন্তু জুলাই-আগস্টে পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ দুটি কিছু ‘যদি’, ‘কিন্তু’র ওপর নির্ভর করছে। এখনো পর্যন্ত নিশ্চিত বলতে সেপ্টেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুটি টেস্ট।

Advertisements

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s