উত্থানের রূপকার সাকিব-তামিম-মুশফিক!

সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল এবং মুশফিকুর রহিমকে বাংলাদেশের ক্রিকেটের উত্থানের রূপকার বলে উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশ দলের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ন আমিনুল ইসলাম বুলবুল।

সম্প্রতি বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি-র ওয়েবসাইটের প্রকাশিত একটি কলামে এমন কথা উল্লেখ করেন বুলবুল।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নিজেদের শততম ম্যাচটি জয়ের পেছনে মূল ভূমিকা এই তিন ক্রিকেটারেরই বলে মনে করছেন বুলবুল। নিজস্ব কলামে তিনি লিখেন, বাংলাদেশের অবিস্মরণীয় এবং ঐতিহাসিক শততম টেস্টে জয়ের জন্য সবচেয়ে বেশি কৃতিত্ব দেওয়া উচিত তিন ধারাবাহিক পারফরমার- অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম, যে মেহেদী হাসান মিরাজ জয়সূচক রান নেওয়ার সময় অন্য প্রান্তে ছিল, সাকিব আল হাসান প্রথম ইনিংসে করেছিল অসাধারণ এক সেঞ্চুরি, যার ফলে প্রথম ইনিংসে ১২৯ রানের লিড পেয়েছিল বাংলাদেশ, আর তামিম ইকবাল, যে ৮২ রানের দুর্দান্ত ইনিংসে চার উইকেটের জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছিল

তবে দেশের ক্রিকেটকে রূপকথার সুন্দর গল্পে রূপ দেওয়া এই তিন ক্রিকেটারের চলার পথটা সহজ ছিল না জানিয়ে বুলবুল এই তিন ক্রিকেটারের সাহসী ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন, এই তিনজন ক্রিকেটে একসঙ্গে যাত্রা শুরু করেছিল ২০০৬ সালে শ্রীলঙ্কায় আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপের মধ্য দিয়েএরপর থেকে এই তিনজন বাংলাদেশের উত্থানের রূপকারে পরিণত হয়েছেযদিও এই পথচলা খুব সহজ ছিল নাকারণ বছরের পর বছর বাংলাদেশের জয়ের তুলনায় হারের সংখ্যাই বেশিবাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং দিন দিন উন্নতি করে বিজয় ছিনিয়ে নিয়ে আসার জন্য প্রয়োজন ছিল সিংহ হৃদয়েরকারণ ক্রমাগত পরাজয়এবং হতাশা খুব সহজেই যে কারও স্বপ্ন এবং আবেগকে নষ্ট করে দিতে পারে

এদেশের ক্রিকেট গর্বের সাথে পার করেছে অনেক করুণ অনুভূতিও। সেক্ষেত্রে মুশফিক দলের মনোবল ধরে রেখেছিলেন বলে উল্লেখ করেন বুলবুল। ২০১২ এশিয়া কাপের ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে হারার স্মৃতি টেনে ধরে তিনি লিখেন,  আমি নিশ্চিত, আমার মতো বাংলাদেশের সব ক্রিকেট সমর্থকদের এখনো মনে আছে, ২০১২ এশিয়া কাপের ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে দুই রানে হারের পর মুশফিক কিভাবে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেনওই অশ্রুগুলো ছিল বড় ইভেন্টে কারও কারও সাফল্য তুলে নিয়ে আসতে না পারার করুণ অনুভূতিএই পর্যায়ে আমি নিজেও খুব গর্বিত এবং খুশি যে মানুষ আবার বাংলাদেশের ক্রিকেটের সঙ্গে থেকেছেনসাহস ও উৎসাহ জুগিয়েছেনতবে সবচেয়ে বেশি থেকেছেন যেন মুশফিকই

তার কলামে বুলবুল আরও লিখেন, বর্তমান সময়ের রোল মডেল হিসেবে সাকিব-তামিম-মুশফিকদের এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই- আপনি যদি এই সময়ে বাংলাদেশের কোনো রোল মডেল খুঁজে বের করতে চান, তাহলে আপনি মুশফিক, সাকিব, তামিমকে এড়িয়ে যেতে পারেন না

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s