আরাফাত সানির ফেরা!!

কথা বলতে চাইতেই চমকে উঠলেন শুশ্রুমণ্ডিত আরাফাত সানি, ‘শুধু খেলা নিয়েই কথা বলবেন তো?’

বিকেএসপিতে প্রিমিয়ার লিগের প্রথম ম্যাচে ৩৩ রানে ৫ উইকেট। সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে কাল ফতুল্লায়ও তুলে নিলেন ব্রাদার্সের চার ব্যাটসম্যানকে। এ মুহূর্তে তাঁর সঙ্গে কথা বলার জন্য খেলাটাই বড় উপলক্ষ। সানির মনে তবু ভয়, ব্যক্তিগত জীবনের সাম্প্রতিক ধাক্কাটাই না আবার প্রশ্ন হয়ে তেড়ে আসে তাঁর দিকে!

সানির দল প্রাইম দোলেশ্বরের কোচ মিজানুর রহমানও একটু পর একই অনুরোধ করে গেলেন, ‘ভাই, শুধু খেলা নিয়েই কথা বলেন। অনেক কষ্টে ও খেলায় মনোযোগ ফিরিয়েছে।’

না, সানির সঙ্গে কথোপকথন খেলার বাইরে যায়নি। একবারের জন্যও তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়নি, কয়দিনের জেল-জীবন কেমন ছিল। ড্রেসিংরুমের ব্যালকনিতে তখন তিনি শুধুই একজন ক্রিকেটার। বিরুদ্ধ স্রোতের মুখোমুখি দাঁড়ানো সফল এক বাঁহাতি স্পিনার।

কিন্তু কীভাবে? টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বোলিং অ্যাকশন প্রশ্নবিদ্ধ হলো। এরপর আদালত-জেল। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর মানসিক শক্তি খুঁজে পেলেন কোথায়? সানির উত্তরটা শুনে মনে হলো, এ আর এমন কঠিন কী! ‘একজন পেশাদার ক্রিকেটার যখন মাঠে ঢোকে, আমার মনে হয় না, তার মাথায় খেলা ছাড়া বাইরের কোনো চিন্তা থাকে। আমারও তা-ই। আমি বোলার, আমার কাজ বোলিং করা। কীভাবে আরও ভালো বোলিং করতে হবে, সেটা নিয়েই বেশি ভাবি। অন্য চিন্তা মাথায় আনি না।’

এই সিদ্ধান্ত তাঁর লিগ শুরুর আগেই নেওয়া। সে জন্যই আগে থেকে জানিয়ে দিয়েছিলেন—কথা বলবেন শুধু খেলা নিয়ে, ‘লিগের আগে যখন অনুশীলন শুরু করলাম, তখনই ঠিক করি, অন্য কিছু নিয়ে ভাবব না। খেলা আমার পেশা। যতই মানসিক চাপে থাকি না কেন, ক্রিকেট আমাকে খেলতেই হবে। ওসব নিয়ে তাই আর চিন্তা করিনি। খেলাতেই সব মনোযোগ দিয়েছি।’

মাত্র নয় দিনের অনুশীলনে লিগ খেলতে নামলেও বোলিং নিয়ে দুশ্চিন্তা ছিল না সানির। যা একটু উদ্বেগ ছিল, তা ফিটনেস নিয়ে, ‘এত দিন ক্রিকেটের বাইরে থাকায় আমার জন্য খেলতে নামা কঠিন ছিল। তবে আমি জানতাম, বোলিংয়ে সমস্যা হবে না। দুই-তিন দিন বোলিং করলে আগের অবস্থায় ফিরে আসব। ফিটনেস নিয়েই যা একটু চিন্তিত ছিলাম, এখনো আছি। গরমের মধ্যে খেলা। আমিও তো ক্রিকেটের বাইরে ছিলাম।’

সে লড়াইয়ে কিছুটা হলেও জিতেছেন এর মধ্যে। সঙ্গে পরিকল্পিত বোলিংয়ে দুই ম্যাচে পাওয়া ৯ উইকেট আত্মবিশ্বাসও বাড়িয়ে দিচ্ছে অনেক, ‘সব সময় পরিকল্পনা থাকে উইকেট সোজা বল করা, রান যত সম্ভব কম দেওয়া। সেটা করতে পারছি বলেই বেশি ভালো লাগছে। এ ধরনের উইকেটে গতিতে বৈচিত্র্য আনাটা গুরুত্বপূর্ণ।’

নতুন বোলিং অ্যাকশনও নাকি তাঁকে সাহায্যই করছে। শুরুতে মানিয়ে নিতে কষ্ট হলেও ধীরে ধীরে আবিষ্কার করছেন নতুন অ্যাকশনের ভালো দিকটা, ‘শুরুতে বল ড্রিফট করত না, বেশি জোরে করলে ফ্ল্যাট হয়ে যেত। এখন ড্রিফট করাতে পারছি। টার্নও হচ্ছে। বলে বৈচিত্র্যও আনতে পারছি। আগের অ্যাকশনে এটা কঠিন ছিল। এখন ফ্লাইট, পেসের বৈচিত্র্য সব সহজ হয়ে গেছে।’

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অ্যাকশন প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার পর থেকেই অনেকটা খেলার বাইরে চলে যান জাতীয় দলের বাঁহাতি এই স্পিনার। তবে অ্যাকশন শুদ্ধ করে আসার পর শুরুতেই তিনটি দীর্ঘ পরিসরের ম্যাচ খেলেছেন। এরপর বিপিএলেও খারাপ করেননি। ব্যক্তিগত জীবনের ঝড়টা না উঠলে হয়তো এখনো জাতীয় দলের মূল বিশেষজ্ঞ স্পিনার হয়ে থাকতেন।

সানি আশাবাদী, সে সুযোগ আবার আসবে। সে জন্য শুধু একটা কাজই করতে হবে। লিগে এই যে সুন্দর শুরু হলো, সেটি ধরে রাখতে হবে। আর অবশ্যই ভুলে থাকতে হবে ‘অন্য চিন্তা।’

 

 

 

🌍 নাসিম হোসেন।

প্রতিবেদক, বিডিক্রিকইনফো।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s