“বৃষ্টিতে পরিত্যাক্ত বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ড ম্যাচ”

c0216435d82b036c9053d8d03390eba2-5915e0e7bf586.jpgপ্রথম ম্যাচের নায়ক কে? উত্তরটা তামিম ইকবাল হতে পারত। দারুণ এক ফিফটিতে দলকে টেনে নিচ্ছিলেন এই ওপেনার। নায়ক হওয়ার সুযোগ ছিল মাহমুদউল্লাহর সামনেও। পাল্টা আক্রমণের পথ তো দেখালেন তিনিই। কিন্তু দুজনকে সে সুযোগ পেলেন না দিল প্রকৃতি। টানা বৃষ্টিতে পণ্ড হয়েছে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচ।

ম্যাচের শুরুটাও হয়েছিল বৃষ্টির ছোঁয়া নিয়ে। নির্ধারিত সময়ের ২০ মিনিট পরে ম্যাচ শুরু হওয়ার পর মনে হচ্ছিল, আজ অন্তত বৃষ্টি বাধা হতে পারবে না। কিন্তু ইনিংসের ৩২তম ওভারে আবারও বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বৃষ্টি। টানা বৃষ্টিতে মাঠ খেলা অনুপযুক্ত হয়ে যাওয়ায় ‘কাট অফ’ সময়ের প্রায় দেড় ঘণ্টা আগেই ম্যাচ পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন আম্পায়াররা।

এই ম্যাচ হারলে বাংলাদেশ র‍্যাঙ্কিং থেকে রেটিং পয়েন্ট হারাত। শুরুর দিকে ম্যাচের যা পরিস্থিতি ছিল, তাতে ম্যাচ ভেসে যাওয়াটা এক দিক দিয়ে স্বস্তিরও হতে পারে। তবে তামিম-মাহমুদউল্লাহর দুর্দান্ত পাল্টা লড়াইয়ের পর মনে হচ্ছে, ম্যাচটা মাঠে গড়ালেই ভালো হতো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সব ভেসে গেল বৃষ্টিতে।

বৃষ্টির আগে অবশ্য মঞ্চটা দখল করেছিলেন তামিম ও মাহমুদউল্লাহ। ৮৭ রানের জুটিতে ধীরে ধীরে বাংলাদেশকে চালকের আসনে নিয়ে যাচ্ছিলেন এ দুজন। ৩১.১ ওভারে বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হওয়ার আগে ৪ উইকেটে ১৫৭ রান তুলেছিল বাংলাদেশ। ৮৮ বলে ৮ চারে ৬৪ রানে অপরাজিত ছিলেন তামিম, ৫৬ বল খেলা মাহমুদউল্লাহ করেছেন ৪৩ রান।

এ দুজনের এমন ব্যাটিংয়ের আগে টপ অর্ডার শঙ্কা জাগিয়েছিল। ধৈর্যের প্রতীক হয়ে এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে রান করছিলেন তামিম। কিন্তু অন্যপ্রান্তে সেই কাজটাই কেউ করতে পারছিলেন না। সাব্বির-সাকিব-মুশফিকরা তো রীতিমতো উইকেট ছুড়ে দিয়ে এসেছেন।

ডাবলিনের মালাহাইডের সবুজ উইকেটে বিপর্যয় দিয়েই শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের ইনিংস। টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে স্কোরবোর্ডে ১৪ রান উঠতেই ফিরে গেছেন সৌম্য সরকার ও সাব্বির রহমান। টানা দুই ওভারে দুজনকে ফেরান পিটার চেজ। উইকেট ঘাসে ঢাকা, মেঘলা কন্ডিশন-বাংলাদেশের জন্য কঠিন পরীক্ষা। বল সুইংও করছিল। সৌম্য তারই শিকার। তবে সাব্বিরের আউটের পেছনে এসব কোনো প্রভাব ফেলেনি। চেজকে অন সাইডে তুলে মারতে গিয়ে থার্ড ম্যানে ক্যাচ দিয়েছেন। কিন্তু এ থেকে শিক্ষা নেননি দলের অন্যতম সেরা দুই ব্যাটসম্যান।

ব্যারি ম্যাকার্থির বলে অযথা খোঁচা মেরে স্লিপে ক্যাচ দিয়েছেন মুশফিক (১৩)। একটু পরে অবশ্য সে শটকেও মামুলি বানিয়ে দিয়েছেন সাকিব। এক ম্যাচ নিষিদ্ধ মাশরাফির বদলে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক হিসেবে খেলতে নামা সাকিবের শটটা অধিনায়ক-সুলভ ছিল না মোটেও। আউট হওয়ার আগে করেছেন ১৪।

৭০ রানে ৪ উইকেট নেই, কন্ডিশন আরও কঠিন করে তুলেছিল তামিম-মাহমুদউল্লাহর পরীক্ষা। সেটা কী দারুণভাবেই না উতরে গেলেন দুজনে। বৃষ্টি না থামালে দুজন কোথায় থামতেন বলা কঠিন।

সিরিজে বাংলাদেশের পরের ম্যাচ আগামী বুধবার। একই সময়ে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ৩১.১ ওভারে ১৫৭/৪ (তামিম ৬৪*, সৌম্য ৫, সাব্বির ০, মুশফিক ১৩, সাকিব ১৪, মাহমুদউল্লাহ ৪৩*; চেজ ৩/৩৩, ম্যাকার্থি ১/৪৬)।

Advertisements

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s