নারাইনে ‌অনুপ্রেরণা পাচ্ছেন ‘অলরাউন্ডার’ তাইজুল!!

219e2544d5ce113a3cdc0fcbe697784c-591ae22f31c62.jpg

এবারের আইপিএলে সুনীল নারাইন নিজেকে চেনাচ্ছেন অন্যভাবে। ওপেনিংয়ে নামেন। শুরুতেই ঝড় তুলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের রান রেট বাড়িয়ে দেন। আইপিএলে দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড এখন তাঁরই। ব্যাটিংয়ে মনোযোগ দিতে গিয়ে বোলিংটাও ভোলেননি। শুধু অফ স্পিনার পরিচয় সরিয়ে নারাইন আবির্ভূত হচ্ছেন অলরাউন্ডার হিসেবে। তাইজুলেরও মনে পড়ে যাচ্ছে, ক্রিকেটের শুরুর দিনগুলোতে তিনি তো ওপেনারই ছিলেন!

নারাইনের এই ব্যাটিং দেখে অভিভূত তাইজুল ইসলাম। ক্যারিবীয় অফ স্পিনারে অনুপ্রেরণা খুঁজে পাচ্ছেন বাংলাদেশের এই বাঁহাতি স্পিনার, ‘নারাইনের ব্যাটিং অনুপ্রাণিত করছে। তাকে যে পজিশনে খেলানো হচ্ছে, সেখানে সে ভালোভাবে সফল। এটা দেখে অন্যরাও অনুপ্রাণিত হচ্ছে। সে যদি পারে, আমরা কেন পারব না?’
তাইজুল যে ব্যাটিং পারেন না, তা নয়। বরং ‘টেস্ট বোলার’ তকমা লেগে যাওয়া বাংলাদেশ দলের এই বাঁহাতি স্পিনারও যে ভালো ব্যাটিং করতে পারেন, ইদানীং সেটি বেশ বোঝা যাচ্ছে। কদিন আগে বিকেএসপিতে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে পারটেক্সের ম্যাচটিতে যেমন। পারটেক্সের ২৩০ রান তাড়া করতে নামা মোহামেডান ৩৪.২ ওভারে ১৫২ রানে হারায় ৭ উইকেট। পরাজয় যখন চোখ রাঙাচ্ছে, তখন আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে তাইজুল মোহামেডানকে পৌঁছে দিয়েছেন জয়ের প্রান্তে। ৪ চার আর ২ ছয়ে তাইজুল অপরাজিত থেকেছেন ৫১ বলে ৫৭ রান করে।
তাইজুলের ‘ব্যাটসম্যান’ হয়ে ওঠার আরও কিছু টুকরো ছবি আছে। গত প্রিমিয়ার লিগে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের হয়ে ভিক্টোরিয়ার বিপক্ষে শেষ বলে ছক্কা মেরে ম্যাচ টাই করেছিলেন তাইজুল।
শুধু ঘরোয়া ক্রিকেটেই নয়, টেস্টেও তাইজুলের ব্যাটে সওয়ার হয়ে জিতেছে বাংলাদেশ। ২০১৪ সালের অক্টোবরে ঢাকা টেস্টে জিম্বাবুয়ের দেওয়া ১০১ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে বাংলাদেশ যখন পরাজয়ের শঙ্কায়, তাইজুল তখন উইকেটে বুক চিতিয়ে লড়েছিলেন। মুশফিক-তাইজুলের অবিচ্ছিন্ন অষ্টম উইকেট জুটিতে ১৯ রান না যোগ হলে বাংলাদেশের ভাগ্যে কী ছিল সেদিন, কে জানে!
গত অক্টোবরে চট্টগ্রাম টেস্টে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চতুর্থ দিন শেষে যে জয়ের আশা জেগেছিল, সেটি সাব্বির রহমান আর তাইজুলের ব্যাটে চড়েই। যদিও টেস্টটা শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ হেরেছে।
আজ বিসিবি একাডেমি মাঠে চমকপ্রদ এক তথ্যই দিলেন তাইজুল, ক্যারিয়ার তিনি শুরু করেছিলেন ওপেনার হিসেবে। কীভাবে সেই পথটা ঘুরে গেল, তা বললেন ২৫ বছর বয়সী এই স্পিনার, ‘১০ বছর আগে অনূর্ধ্ব-১৫ দলে ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেছি। অনূর্ধ্ব-১৮ ক্রিকেটে বিভাগীয় দলের হয়ে বোলিংয়ে ভালো করেছিলাম। তখন থেকেই বোলিংয়ে ঝুঁকে পড়ি। ভাবলাম দুই দিকেই এগোলে কোনোটাই হবে না।’
তবে কিছুদিনে বোলিংয়ের পাশাপাশি ব্যাটিং ভালো হওয়ায় ধীরে ধীরে অলরাউন্ডার হওয়ার স্বপ্নটা জেগেছে তাইজুলের মনে, ‘এখন জাতীয় দলে অনেক প্রতিদ্বন্দ্বিতা। বোলিং-ফিল্ডিংয়ের পাশাপাশি ব্যাটিং করতে পারলে দলে সুযোগ পাওয়াটা কিছুটা সহজ হয়ে যায়। তিন দিকেই ভালো করে ওয়ানডেতে আবারও ফেরার চেষ্টা করব।’

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s