“যখন থেকে তামিমের বদলে যাওয়া”

tamim_iqbal_16

বিশ্বমানের ব্যাটসম্যানরা ছন্দে থাকলে যেভাবে খেলে, সে সেভাবে খেলছে। ফর্ম আসলে একেই বলে’—ধারাবাহিত দ্যুতি ছড়ানো তামিম ইকবালকে নিয়ে এর চেয়ে বেশি আর কী বলতে পারেন মাশরাফি বিন মুর্তজা!

গত মার্চে শ্রীলঙ্কা সফরে সেঞ্চুরি করেছেন, আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজে চার ম্যাচের দুটিতে ফিফটি, একটি ৪৭-ও আছে। এরপর পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে সেঞ্চুরি। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির উদ্বোধনী ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১২৭, অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে পরের ম্যাচে ৯৫—এ বছর যে ৯টি ওয়ানডে খেলেছেন তামিম। করেছেন ২ সেঞ্চুরি, ৩ ফিফটি। ৭৯ গড়ে বাঁহাতি ওপেনারের রান ৫৫৩।
শুধু এ বছর কেন, তামিম ধারাবাহিকতার প্রতিচ্ছবি ২০১৫ সালের এপ্রিল থেকে। ২০১৫ বিশ্বকাপে ব্যক্তিগত ব্যর্থতা যেন ক্যারিয়ারে নতুন পথ দেখিয়েছে তাঁকে। বিশ্বকাপে ৬ ম্যাচে ২৫.৬৬ গড়ে ১ ফিফটিতে তামিম করেছিলেন ১৫৪ রান। বাজে ব্যাটিংয়ে তীব্র সমালোচনা সইতে হয়েছে বাঁহাতি ওপেনারকে। বিশ্বকাপ ব্যর্থতার পর শুরু তামিমের বদলে যাওয়া। ব্যর্থতা ঝেড়ে ২০১৫ সালের এপ্রিলে পাকিস্তানের বিপক্ষে হোম সিরিজে নিজেকে উপস্থাপন করলেন নবরূপে।
তামিম-রথ তখন থেকেই ছুটে চলছে। ২০১৫ সালের এপ্রিলের আগে ক্রিকেটের তিন সংস্করণ মিলিয়ে তাঁর গড় ছিল ৩১.০২। এই দুই বছরে সেটি ৪৫.৮৭। ২০১৫ সালের এপ্রিলের আগে তিন ধরনের ক্রিকেটে সেঞ্চুরি ছিল ১০টি। এখন সেঞ্চুরি সংখ্যা ১৮টি। তামিমের ক্যারিয়ারের প্রায় অর্ধেক (৪৪ শতাংশ) সেঞ্চুরি এসেছে এই সময়ে। মাত্র দুই বছরে!
গত দুই বছরে ১৫টি ফিফটির বিপরীতে ৮ সেঞ্চুরি বলে দিচ্ছে, ইনিংস লম্বা করার সামর্থ্য বেড়েছে বহুগুণ। ক্যারিয়ার সর্বোচ্চ ২০৬ রানের ইনিংস এসেছে এ সময়েই। পাকিস্তানের বিপক্ষে খুলনা টেস্টে তামিমের সেই ডাবল সেঞ্চুরি তো বাংলাদেশের ক্রিকেটীয় রূপকথার অংশ। টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান তিন অঙ্ক ছোঁয়ার গৌরব তাঁর। গত বছর বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ক্রিকেটের তিন সংস্করণে সেঞ্চুরির কীর্তিও তামিমের।
শুধু আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কেন, ঘরোয়া ক্রিকেটেও ধারাবাহিকতার প্রতিচ্ছবি তামিম। ২০১৬ ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ১৬ ম্যাচে ৭১৪ রান করে ছিলেন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক, ৫ রানের জন্য শীর্ষস্থান ছুঁতে পারেননি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ব্যস্ত থাকায় এবার প্রিমিয়ার লিগে খেলেছেন ২ ম্যাচে। তাতেই ১০১.৫০ গড়ে তাঁর রান ২০৩। ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টেও দুর্দান্ত তামিমকে দেখা গেছে। সর্বশেষ বিপিএলে ১৩ ম্যাচে ৪৩.২৭ গড়ে ৪৭৬ রান করে ছিলেন সবার ওপরে।
ধারাবাহিকতা কাকে বলে—এই মুহূর্তে উত্তরটা সবচেয়ে ভালো দিতে পারবেন তামিম। ক্রিকেটের যে সংস্করণে হোক, যে টুর্নামেন্ট হোক, বাঁহাতি ওপেনার প্রতিনিয়ত মুগ্ধ করেছেন ছন্দময় ব্যাটিংয়ে। কিছুদিন আগে প্রথম আলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘গত দুই বছর আমার দারুণ কাটছে। সব সংস্করণেই বেশ ভালো খেলেছি। এই ছন্দটা কতটা ধারাবাহিক করা যায়, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। আমার পরবর্তী লক্ষ্য এটাই।’
সেই লক্ষ্য পূরণে তামিম যে ভালোভাবেই এগোচ্ছেন, তাঁর ব্যাটিংয়ে সেটি পরিষ্কার।

তামিমের বদলে যাওয়া:

  ম্যাচ ইনিংস রান           সর্বোচ্চ গড় স্ট্রাইক রেট                 ১০০   ৫০
পুরো ক্যারিয়ার (২০০৭-২০১৭) ২৭৬ ৩১৯ ১০৫৫২ ২০৬ ৩৪.১৪ ৭০.৭৯ ১৮ ৬৩
আগের তামিম (২০০৭-২০১৫ মার্চ) ২১৪ ২৪৮ ৭৫৭০ ১৫৪ ৩১.০২ ৬৮.৯২ ১০ ৪৮
নতুন তামিম (২০১৫ এপ্রিল-২০১৭) ৬২ ৭১ ২৯৮২ ২০৬ ৪৫.৮৭ ৭৬.০৫  ১৫
Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s